প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
NEWS 9
NEWS 9 Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | admin@mtechsolutionbd.com
জাতীয়

রূপপুর: পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি প্রাপ্তি দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। গত সপ্তাহে উচ্চ
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 8, 2026 প্রিন্ট: 23 Oct 2026, 09:16 AM
রূপপুর: পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি প্রাপ্তি দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। গত সপ্তাহে উচ্চচাপে দুই দফায় নিরাপত্তা ভালভের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অনুমোদন প্রদান করেছে। এই অনুমোদন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও চালু করার প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ধাপের সূচনা করে, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে এবং শিল্পখাতের শক্তি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পটি ২০১৯ সালে পরিকল্পনা পর্যায়ে অনুমোদিত হয় এবং তখন থেকে বিভিন্ন ধাপে অগ্রসর হয়েছে। প্রথমে সাইট সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কাজ করা হয়েছে। এরপর মূল কাঠামো নির্মাণ, কুলিং সিস্টেম স্থাপন এবং রিএক্টর ভেসেল সংযোজনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষা এই ধারাবাহিকতার শেষ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা রিএক্টরের তাপমাত্রা ও চাপ নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে। পূর্বে একই ধরনের পরীক্ষায় কোনো ত্রুটি না পাওয়ায় সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।

প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে সরকারী কর্মকর্তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, “এই অনুমোদন রূপপুর প্রকল্পকে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর করে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” রিএক্টর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানও উল্লেখ করেছেন, “উচ্চচাপের ভালভ পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রিএক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট।” তবে কিছু পরিবেশগত সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলও প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জনমত সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সমালোচনা করেছে।

অনুমোদনের পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুততর করা হবে। প্রথমে জ্বালানি লোডিং এবং রিএক্টর শুরুর পূর্ব প্রস্তুতি শুরু হবে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য। সরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে রূপপুর প্রকল্পের ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৩% অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধাপটি দেশের জ্বালানি নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে আরও পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ NEWS 9